• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিমের পাঁচটি কবিতা

॥ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম॥ / ১০৭ Time View
প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

মুমিন কত মগ্ন থাকে

রাতের বেলা গভীর আঁধার চুম দিয়ে যায় গায়
কর্মক্লান্ত মানুষ সুখে ঘুমায় নিরালায়,
প্রভাতবেলা যখন আবার ভাঙে সুখের ঘুম
স্নিগ্ধ কোমল ভোরের আলো গায় দিয়ে যায় চুম।

ঘুম আসে আর ঘুম ভেঙে যায় প্রভুর করুণায়
নতুন জীবন শুরু যে হয় আলোর বসুধায়,
রাত্রি শেষে প্রভাতবেলা প্রাণের পিপাসায়
মুমিন কত মগ্ন থাকে প্রভুর প্রশংসায়!

ফজর পড়ে দিনের শুরু করে যে মুমিন
হিয়ার মাঝে সাড়া জাগায় আলোকিত দিন,
দিকে দিকে প্রবাহিত আলোর সুষমায়
বিমোহিত হৃদয় কত ধন্য হয়ে যায়!

দিনরজনির সন্ধিক্ষণের মোহনীয় রূপ
বিকাশমান থাকে যখন লাগে অপরূপ,
পূব আকাশে বিকশিত আলোর মোহনায়
চমৎকৃত হৃদয় যেন মিশে যেতে চায়।

প্রভাতবেলার শীতল বাতাস লাগে যখন গায়
কী অপরূপ অনুভবে হৃদয় শিহরায়!
আলোকমালায় দীপ্ত যখন ব্যাপ্ত দিগন্তর
কাজের তরে ব্যস্ত মানুষ ছোটে নিরন্তর!

নিয়ম মেনে মুমিন যখন কর্মমুখীন হয়
অকারণে সময় তো আর হয় না অপচয়,
যথাযথ নির্ধারিত ললিত নিয়ম
মানবজীবন করে কত স্নিগ্ধ অনুপম!

 

ক্ষুদ্র মশার কাছে কেন মানে পরাজয়

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞ মানুষ হয়তো এমন হয়
আকাশ বাতাস সাগর ভূধর করতে পারে জয়,
জ্ঞানগরিমায় ধন্য এত গভীর প্রজ্ঞাময়
মহাশূন্য জয় করা তো কোনো ব্যাপার নয়!

কত অবাধ ভ্রমণ করে সারাবিশ্বময়
জ্ঞান আহরণ করে মানুষ ধন্য কত হয়!
এই নিসর্গের কতকিছু করে ব্যবহার
সুখসম্ভোগের জীবন কত ধন্য অনিবার!

জ্ঞানবিজ্ঞানে মানুষ যখন এত ধন্য হয়
এই ভুবনের কতকিছু আয়ত্তে যে রয়!
ভাগ্যচক্রে ঘটে কভু চরম বিপর্যয়
এই নিসর্গের কাছে মানে করুণ পরাজয়।

কখনোবা লজ্জাজনক ঘটে বিপর্যয়
মশার কাছে মানতে যে হয় চরম পরাজয়!
মশার কামড় খেয়ে খেয়ে হয় যে কত রোগ
এই জীবনে নেমে আসে কত-যে দুর্ভোগ!

মানুষ যদি করতে পারে সারাভুবন জয়
ক্ষুদ্র মশার কাছে কেন মানে পরাজয়?
মশার কাছে কেন এত হয়ে অসহায়
দুরারোগ্য রোগে ভুগে জীবন চলে যায়?

অনিশ্চিত জীবনের এই ক্ষণিক দুনিয়ায়
অবশেষে হতে যে হয় কত অসহায়!
এই ভুবনে মানুষ যতই হোক না শক্তিমান
অবশেষে এই জীবনের ঘটে অবসান।

 

ক্রূর হিংস্রতার ঘটে যবনিকাপাত

নির্যাতিত মানুষের ব্যাপ্ত বসুধায়
অশ্রুস্রোতোধারা কেন নিত্য বয়ে যায়?
সুশোভিত শ্যামলিম বিস্তীর্ণ প্রান্তর
কেন এত রক্তস্নাত হয় নিরন্তর?

মত্ত থেকে ভয়াবহ স্বৈরাচারিতায়
হিংস্রতার বীজ বুনে স্নিগ্ধ মৃত্তিকায়
সময়ের ব্যবধানে আকস্মিকতায়
সহিংস আঘাত হানে উগ্র হিংস্রতায়।

প্রতীক্ষায় বিপর্যস্ত আশান্বিত মন
শেষ হবে দ্রুত এই ক্রূর নির্যাতন
উদ্ভাসিত হবে ব্যাপ্ত বিধ্বস্ত অঙ্গন
প্রশান্তিতে ভরে যাবে মনের ভুবন।

ক্রূর নির্যাতনে মত্ত থেকে সীমাহীন
যারা থাকে নির্বিকার এত উদাসীন
নিসর্গের আক্রোশের হয়ে সম্মুখীন
কাটে ত্রস্ত অভিশপ্ত ভয়াবহ দিন।

স্বেচ্ছাচারী জীবনের মিথ্যা অহংকার
প্রচণ্ড আঘাতে ভেঙে হয় চুরমার,
অভিশপ্ত জীবনের ক্লিষ্ট প্রতিফল
দুর্নিবার প্রবাহিত নয়নের জল।

অনুপম নিসর্গের রীতি চিরন্তন
যেইখানে চলে এত ক্রূর হিংস্র নির্যাতন
নৃশংস আঘাত যদি হানে অকস্মাৎ
ক্রূর হিংস্রতার ঘটে যবনিকাপাত।

 

জীবনে যখন আসে কঠিন দুর্দিন

জীবনে যখন আসে কঠিন দুর্দিন
হতাশায় নিমজ্জিত হয় না মুমিন,
সাধনায় নিয়োজিত নিবেদিত প্রাণ
নিরন্তর করে যায় প্রয়াস আপ্রাণ।

মহান স্রষ্টার প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস
উজ্জীবিত করে আরো অগাধ আশ্বাস,
সুকঠিন পরীক্ষার হয়ে সম্মুখীন
পার হয়ে যেতে হয় বিপর্যস্ত দিন।

কর্মময় জীবনের যে-কোনো সময়
ভয়াবহ বাস্তবতা মেনে নিতে হয়,
বহুবিধ ঘটনার আকস্মিকতায়
সমুত্তীর্ণ হতে হয় অগ্নিপরীক্ষায়।

আসে যত বাধাবিঘ্ন নগ্ন অন্তরায়
পার হয়ে যেতে হয় মগ্ন সাধনায়,
পৃথিবীতে স্বতঃসিদ্ধ এইতো নিয়ম
সাধনায় এ জীবন হয় অনুপম।

ভয়াবহ বিপদের হয়ে সম্মুখীন
পথভ্রষ্ট হয় নাতো নিবিষ্ট মুমিন,
আল্লাহর অনুগ্রহ করে নিবেদন
কায়মনোবাক্যে করে শোকর জ্ঞাপন‌।

হৃদয়ে লালন করে গভীর প্রত্যয়
দূরদর্শিতায় করে সূক্ষ্ম সমন্বয়
নিরন্তর নিবেদিত সাধ্যসাধনায়
বিপন্ন সময় ক্রমে পার হয়ে যায়।

 

সহজে জাগে না আর মানবিক হুঁশ

যখন বানাতে পারে বেহায়া বেলাজ
শয়তান আর বেশি করে নাতো কাজ,
যাকিছু করার করে নিজেই মানুষ
ক্রমান্বয়ে লোপ পায় মানবিক হুঁশ।

বিশ্বজুড়ে বিরাজিত বেহায়ার দল
লোকারণ্যে করে কত নগ্ন কোলাহল!
ভাবে বুঝি যাচ্ছেতাই করে যদি মন
সভ্যতার হবে কত উন্নতি সাধন!

নির্ধারিত সীমারেখা করে উল্লঙ্ঘন
উন্মত্ত উচ্ছ্বাসে মত্ত উদ্ভিন্ন যৌবন
আন্দোলিত করে কত নগ্ন তনুমন
ভাবে বুঝি করে যাবে অসাধ্যসাধন!

ভাবে বুঝি এ জীবন হবে অনুপম
লোভনীয় শোভনীয় কত মহত্তম!
দুষ্টচক্রে ঘূর্ণাবর্তে চলে কার্যক্রম
উত্তম মানুষ হয় পশুর অধম।

জঘন্য ঘটনা কত ঘটে যে নিতুই
শয়তান বেশি আর করে না কিছুই,
অভিনব পদ্ধতিতে শুধু সূচনায়
শয়তান ন্যূনতম থাকে ভূমিকায়।

বিপর্যস্ত মানুষের গেয়ে জয়গান
চোখের আড়ালে থাকে ধূর্ত শয়তান,
যখন মানুষ হয় মত্ত অমানুষ
সহজে জাগে না আর মানবিক হুঁশ।

কর্মফল কিংবা কোনো ভাগ্যবিপর্যয়

পৃথিবীতে এ জীবন এমন তো নয়
ধন্য হয় পেয়ে শুধু সুখের সময়,
দুঃখকষ্ট বিমিশ্রিত মানবজীবন
আন্দোলিত করে কত প্রভাবিত মন!

সৌভাগ্যে যখন আসে সুখের সময়
এ জীবন যেন কত ধন্য মনে হয়!
যেন কত অনাবিল কত অনুপম
সহজে হবে না বুঝি কোনো ব্যতিক্রম।

সুখের সাগরে এত আন্দোলিত ঢেউ
কষ্টের কথা মোটেও ভাবে নাতো কেউ,
সুখ তো জীবনে কারো চিরস্থায়ী নয়
সুখের মাঝেই কভু আসে বিপর্যয়।

জীবনে যখন আসে কঠিন সময়
মেনে নিতে চায় নাতো বিধ্বস্ত হৃদয়,
কষ্টের সময় কভু করে যেতে পার
সম্মুখীন হতে হয় ধৈর্য পরীক্ষার!

ক্ষুধাতৃষ্ণা অনটন ফসলের ক্ষতি
ভয়াবহ পরিস্থিতি দুঃসহ দুর্গতি
কখনোবা দুর্বিষহ ক্লিষ্ট বিপর্যয়
অযাচিতভাবে এসে উপনীত হয়।

সুখের সম্ভারে এত সমৃদ্ধ হৃদয়
নিমজ্জিত কষ্টে কত বিপর্যস্ত হয়!
কর্মফল কিংবা কোনো ভাগ্যবিপর্যয়
বাধ্য হয়ে অবশ্যই মেনে নিতে হয়।

লেখক : প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ শাহবাগ, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget