• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

জনগণ যাদের চায় তাদের ক্ষমতায় বসাতে হবে : ফখরুল

একেনিউজ ডেস্ক ॥ / ৩৬ Time View
প্রকাশিত : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২

ফাইল ছবি

এই সরকারকে সরানো ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সামনে একটাই পথ খোলা। এই সরকারকে সরিয়ে দেব।

কারণ তারা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তারা নির্বাচন করতে চায়। আবার বলে- আসেন না নির্বাচন করেন। কোন নির্বাচন করবে? আপনার সেই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন করবে? নির্বাচন এখানে কখনোই হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এখানে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
ফখরুল বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদেরও আমরা এই কাতারে আনার চেষ্টা করছি। সবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে। এরপর সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। নতুন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসবে সেই সরকার একটা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে তারা একটি নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে নতুন করে একটা পার্লামেন্ট গঠন করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব এ সময় উপস্থিত উলামা দলের নেতৃবৃন্দকে বলেন, আপনারা অনেকে ছাত্র পড়ান, তাদের শিক্ষা দেন, আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনমতকে সংগঠিত করা, মানুষকে সংগঠিত করা, সত্যের পথে ন্যায়ের পথে। কারণ আমরা তো অন্যায় কিছু বলি না। আমরা বলি, সঠিক পথে চলুন। আমরা বলি না যে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেন। না। আমরা বলি জনগণ যাকে চায়, তাদের ক্ষমতায় বসাতে হবে। তারা দেশ চালাবে।

মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নিজেদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে এক হোন। পদের জন্য, কমিটির জন্য লড়াই করবেন না। এখন লড়াই করতে হবে দেশকে রক্ষা করার জন্য। এটা সবচেয়ে বড় লড়াই। সেই দিকে আমাদের যেতে হবে।

দেশে এক অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে আজকে একটা অসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে। আজকে মসজিদে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমি কিছুদিন আগে দেখেছিলাম এখন আছে কিনা জানি না, খুতবা যে হবে এই খুতবাও তারা (সরকার) নির্ধারণ করে দেবে। এর চেয়ে খারাপ কথা আর কী হতে পারে। সেই কাজগুলো তারা করতে এতোটুকু দ্বিধাবোধ করে না। মসজিদে মসজিদে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে পোষাকে এবং সাদা পোষাকে। কেন? আমি আমার ধর্ম পালন করব-এটা আমার সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করব। সেই খানে নিয়ন্ত্রণ মানেই হচ্ছে তারা সেখানেও নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন, আমরা যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, আমাদের এখানে মানুষজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বাস করে। এখানে আমরা মুসলমানরা আমাদের মতো ধর্ম পালন করেছি, হিন্দু সম্প্রদায় তাদের মতো ধর্ম পালন করেছে, বৌদ্ধরা তাদের মতো করেছে, খ্রিষ্টানরা তাদের মতো করেছে।

এক্ষেত্রে সরকার বিভাজন সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এরা সকলের ওপর নির্যাতন করছে। একদিকে শুধু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করছে তা নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার করে তাদের উপাসনালয় ভেঙে দেয়, পূজামন্ডপ ভেঙে দেয়, তাদের সম্পত্তি দখল করে। রামুতে দেখেছে সেখানে কি হয়েছে? রামুর প্যাগোডা তচনচ করে দিয়েছিল- এর সব নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের লোকরা। বৌদ্ধরা সংবাদ সম্মেলন করেও এসব বলেছে।

সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

উলামা দলের আহ্বাবায়ক অধ্যক্ষ শাহ নেছারুল হকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মো. সেলিম রেজার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির উদ্দিন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget