• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে বন্ধুকে খুঁজতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার স্কুলশিক্ষার্থী : বাসায় ফিরে আত্মহত্যা

একেনিউজ ডেস্ক ॥ / ২০৫ Time View
প্রকাশিত : শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

বান্ধবীকে সাথে নিয়ে কক্সবাজারে আসা চট্টগ্রামের স্কুল ছাত্রী সানিহা আফরিন মুমু (১৬) ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের দাবি, কক্সবাজারে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অপমান সইতে না পেরে এই স্কুলশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (৩ জুন) সকালে বায়েজিদের বোস্তামি থানার টেক্সটাইল এলাকায় নিজ বাসা থেকে সানিহা আফরিন মুমু (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুমুর খালাতো বোন সালমা জানান, গত মঙ্গলবার (৩১ মে) ভোরে এক বান্ধবীকে নিয়ে জিসান নামে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যায় মুমু। তবে সেখানে এক অটোরিকশা চালক তাকে ফুঁসলিয়ে একটি হোটেলে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে। এরপর বুধবার (১ জুন) রাতে বাসায় ফিরে মুমু। এর একদিন পর নিজ বাসায় কিশোরীর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় মুমুর সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বান্ধবী জানায়, মঙ্গলবার (৩১ মে) ভোরে কলাতলি মোড়ে এসে পৌঁছায় তারা। জিসানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাকে খুঁজে না পেয়ে অভিমান করে ওই কিশোরী। পরে তাকে রেখে এক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে মুমু চলে যায়। সঙ্গে মুঠোফোন না থাকায় এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ওই বান্ধবী ফিরে বিষয়টি মুমু পরিবারকে জানালে তারাও কিশোরীর খোঁজ করতে থাকেন। পরে তারা বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ করেন। কিন্তু এরমধ্যে বুধবার (১ জুন) রাতে মুমু বাসায় ফিরে আসে।
স্বজনদের দাবি, বাসায় ফিরে প্রথমদিন কাউকে কিছু জানায়নি মুমু। পরের দিন মুমু তার বোনের কাছে স্বীকার করে অটোরিকশা চালক তাকে একটি হোটেলে রেখে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন মুমুর স্বজনরা।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সকালে স্কুল শিক্ষার্থীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের পর পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে। আত্মহত্যায় কারো প্ররোচনা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। মুমু চট্টগ্রাম শেরশাহ ডাক্তার মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget