• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিমের সাতটি কবিতা

॥ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম ॥ / ৭৯ Time View
প্রকাশিত : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

প্রতিষ্ঠিত হোক প্রীত স্নিগ্ধ পরিবেশ

প্রত্যাশিত যেথা এত শৃঙ্খলা নিয়ম
শান্তিপূর্ণ এ জীবন স্নিগ্ধ অনুপম
কেন সেথা বিশৃঙ্খলা নগ্ন অনিয়ম
বিপর্যস্ত করে এত শৃঙ্খলা নিয়ম?

কলুষিত করে প্রীত স্নিগ্ধ পরিবেশ
কলঙ্কিত করে যারা সুপ্রিয় স্বদেশ
তারা যদি পায় এত আশ্রয়প্রশ্রয়
মেনে নিতে পারে নাতো বিব্রত হৃদয়।

বিন্যস্ত রয়েছে কত দক্ষ প্রশাসন
প্রচলিত আইনের প্রত্যক্ষ শাসন,
তবু কেন যথাযথ নিয়ন্ত্রণহীন
জঘন্য ঘটনা এত ঘটে প্রতিদিন?

দুর্বিনীত মানুষের দোর্দণ্ড দাপট
পরিস্থিতি করে এত ওলটপালট
অযাচিত বিঘটিত ঘটনামালায়
কেন যে জড়ায় এত কলঙ্কমালায়!

প্রশাসন যদি হয় এত নিরুপায়
কোথায় রয়েছে তবে এত অন্তরায়?
দুর্বৃত্তের কাছে কেন মেনে পরাজয়
বিপর্যস্ত হয় এত বিধ্বস্ত হৃদয়?

উদ্ঘাটিত করে দ্রুত সমস্যার মূল
নিরসিত করে যত বিরাজিত ভুল
প্রতিষ্ঠিত হোক প্রীত স্নিগ্ধ পরিবেশ
ধন্য হোক হৃদয়ের সুপ্রিয় স্বদেশ।

প্রতিফল পেতে হয় অনিবার্যতায়

উন্মত্ত উদ্ভ্রান্ত থেকে স্বীয় ক্ষমতায়
সম্মানিত ব্যক্তিকে যে কত অবজ্ঞায়
সদম্ভে আঘাত হেনে নগ্ন উগ্রতায়
দুর্বিনীত দাম্ভিকেরা ধন্য হতে চায়!

অবজ্ঞার হাসি হেসে আত্মগরিমায়
দুর্বিনীত কেউ যদি ধন্য হতে চায়
সময়ের ব্যবধানে প্রাসঙ্গিকতায়
বাধ্য হয়ে ভোগে ক্লিন্ন আত্মগ্লানিমায়।

অপরের প্রতি হেনে কোনো অসম্মান
কেউ কভু পায় নাকি যথার্থ সম্মান!
অন্যকে সম্মান করে ধন্য হতে হয়
সাফল্য নিহিত সেথা অন্যথায় নয়।

আচরণ মোতাবেক পেতে হয় ফল
কেউ ধন্য হয় আর কেউবা বিফল,
অথচ মানুষ করে উগ্র আচরণ
ভাবে বুঝি করে যাবে অসাধ্যসাধন।

সদম্ভে আঘাত হেনে স্বৈরাচারিতায়
যদিওবা দাম্ভিকেরা ধন্য হতে চায়
নৈসর্গিক নৈয়মিক অমোঘ ধারায়
প্রতিফল পেতে হয় অনিবার্যতায়।

যথাযথ নিবেদিত বিনীত হৃদয়
করে যেতে পারে যদি স্বচ্ছ বিনিময়
সম্ভ্রমে জাগ্রত করে প্রশান্ত বিনয়
সমন্বিত এ জীবন ধন্য মনে হয়।

নিরন্তর জ্ব‌লে ক্লিষ্ট জ্বলন্ত জ্বালায়

দুর্বিনীত মানুষের কলুষিত মন
ভ্রান্তির বিভ্রান্ত পথে করে বিচরণ
অন্তরালে থেকে করে ক্লিন্ন আচরণ
বিপর্যস্ত করে আরো বিপন্ন মনন।

বিস্তারিত করে কত বিদ্বেষের জাল
বিপন্ন মানুষ কত করে নাজেহাল
কূটকচালের খেলা খেলে নিরন্তর
জঘন্য বিপন্ন করে বিধ্বস্ত অন্তর!

সুখের সন্ধানে থেকে ব্যাপৃত উন্মুখ
ভাবে বুঝি পেয়ে যাবে প্রত্যাশিত সুখ,
লালসায় জর্জরিত কলুষিত মন
চরম বিভ্রমে করে আত্মনিপীড়ন।

নিমজ্জিত নিবেশিত মোহগ্রস্ততায়
ভয়াবহ ছলনার জাল বুনে যায়,
ছলনার জালে বদ্ধ প্রতারিত মন
ভাবে বুঝি কেউ তার বোঝে না মনন।

অন্তরালে মত্ত থেকে ক্রূর ছলনায়
ধন্য হতে চায় কত সাফল্যমালায়!
কুটিল জটিল ব্যাপ্ত স্বীয় পাতা ফাদ
মনের অজান্তে কত ঘটায় প্রমাদ!

প্রতারিত প্রভাবিত কলুষিত মন
জঘন্য বিভ্রান্ত পথে করে বিচরণ
বিপর্যস্ত জীবনের কলঙ্কমালায়
নিরন্তর জ্ব‌লে ক্লিষ্ট জ্বলন্ত জ্বালায়।

মুখোশ খুলে যায়

মুখোশ পরে করে কত ছলচাতুরীর কাজ
ভদ্রবেশে চলেফিরে যেন মহারাজ!
মুখোশ খুলে যাবে যেদিন সেদিন দূরে নয়
জানা যাবে সেদিন সঠিক আসল পরিচয়।

রঙিন মুখোশ পরে কত আনন্দে মশগুল
ভাঙতে যেন চায় না মোটেও ভয়াবহ ভুল,
ভুলের মাঝে থেকে কত মত্ত নিরন্তর
চলতে থাকে ভুলের খেলা সারাজীবনভর।

মহানন্দে প্রবেশ করে সুখের ঠিকানায়
সুখসাগরে যেন কত হাবুডুবু খায়!
মত্ত হয়ে ভাবে কত সুখ যে সীমাহীন
এই জীবনে শেষ হবে না মোটেও কোনোদিন।

অন্তরালে মত্ত এত অপকর্মের দায়
ভদ্রবেশী মুখোশধারী নিতে কী আর চায়!
স্বতস্ফূর্ত স্বতসিদ্ধ নৈয়মিকতায়
কালের স্রোতে ভদ্রবেশীর মুখোশ খুলে যায়।

আকাশ থেকে ঘটে যেন পাতালে পতন
কোথায় হারায় ভয়াবহ ক্রুদ্ধ আস্ফালন?
ছলচাতুরীর খেলায় করে শীর্ষে অবস্থান
ফিরাতে আর পারে নাকি নগ্ন অপমান?

ছলচাতুরীর মত্ত খেলা যতই খেলা হয়
খেলতে কি আর পারে নাকি সারাজীবনময়?
মোহাচ্ছন্ন খেলায় যদি কাটেও মত্ত দিন
ছলের খেলার ক্ষমতা আর টিকে কতদিন?

দুর্বিনীত মুখোশধারী

মুখোশধারী মানুষজনে ভরা এ ধরায়
নিরাপদে বেঁচে থাকা যেন ভীষণ দায়,
কথাবার্তায় চালচলনে বড়ই চমৎকার
কে যে ভালো কে যে মন্দ যায় না জানা আর।

মোহমায়ায় জড়িয়ে কী দারুণ ক্ষমতায়
খুব সহজে মিশে এসে মনের মোহনায়,
মন ভুলানো করে কত দক্ষ অভিনয়
অবলীলায় করে দ্রুত মনের ভুবন জয়!

বহে যখন ভয়াবহ কূটকচালের ঢেউ
মুখোশধারীর সাথে তখন মুখোশ ছাড়া কেউ
দুর্নিবার ঘুর্ণিপাকে পড়ে যদি যায়
মুক্তির উপায় খুঁজে পাওয়া হয় যে ভীষণ দায়।

মুখোশধারীর ফেরে পড়ে ভাগ্যহত কেউ
সামলাতে আর পারে নাতো দুর্বিনীত ঢেউ,
মুখোশধারী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়
ভাগ্যহত হয় যে কত চরম অসহায়!

তাই বলে কি সারাজীবন এত নির্বিচার
দুর্বিনীত মুখোশধারী পেয়ে যাবে পার?
প্রতিষ্ঠিত হবে যখন স্বচ্ছ সুবিচার
কেমন করে মুখোশধারী পেয়ে যাবে পার?

বিপর্যস্ত বিশ্ব এখন আছে প্রতীক্ষায়
ভুক্তভোগী মানুষ যেন স্বচ্ছ বিচার পায়,
প্রতিষ্ঠিত হোক এ ধরায় স্বচ্ছ সুবিচার
দুর্বিনীত মুখোশধারী পায় না যেন পার।

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ নগ্নতার গ্রাস

ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত বিপন্ন হৃদয়
নগ্নতায় যেন কত অডিভূত হয়!
অবারিত প্রদর্শিত উগ্র নগ্নতায়
যেন কত প্রসাধনী খুঁজে পেতে চায়!

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ নগ্নতার গ্রাস
বিপর্যস্ত সভ্যতাকে করে পরিহাস
পথে পথে সৃষ্টি করে অনুগত দাস
দিতে আর চায় নাতো কোনো অবকাশ।

ছলেবলেকলে কত ব্যবস্থাপনায়
পথে পথে প্রদর্শিত উগ্র নগ্নতায়
দুর্নিবার নিমজ্জিত পথভ্রষ্টতায়
জীবন জড়ায় কত কলঙ্কমালায়!

নগ্নতায় অভিভূত বিপন্ন হৃদয়
হাবুডুবু খেয়ে যদি নিমজ্জিত হয়
সহজে ঘটে না আর কোনো উত্তরণ
বিপর্যস্ত পর্যুদস্ত থাকে আজীবন।

নগ্নতার কাছে করে আত্মসমর্পণ
কারুকাজে ব্যতিব্যস্ত থেকে অনুক্ষণ
সহজে বিলিয়ে দিয়ে সম্ভাব্য জীবন
পরিণামে করে নগ্ন আত্মবিসর্জন।

আলোকিত জীবনের শুভপ্রত্যাশায়
জাগ্রত বিবেক ব্যগ্র মগ্ন সাধনায়
অতিক্রম করে যত ব্যাপ্ত অন্তরায়
নগ্নতার গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে চায়।

সমন্বিত প্রত্যাশিত যথার্থ বিচার
কলঙ্কের দাগ মেখে সভ্যতার গায়
মানুষ যখন মত্ত পাশবিকতায়
ভ্রষ্টাচারে জর্জরিত সামাজিকতায়
জীবনের পথে পথে আঁধার ঘনায়।

অযাচিত নিমজ্জিত ঘন অন্ধকার
জঘন্য আচ্ছন্ন করে দুরন্ত দুর্বার
আলোকিত জীবনের রুদ্ধ করে দ্বার
অবারিত করে পথ পাশবিকতার।

আলোকিত জীবনের প্রিয় প্রত্যাশায়
নিবেদিত সাধনার শুভ সূচনায়
কেন কারো অযাচিত উদাসীনতায়
জীবন জড়ায় এত কলঙ্কমালায়?

কলুষিত প্রলোভিত মানসিকতায়
ক্ষণিকের মোহমত্ত স্বার্থান্বেষিতায়
প্ররোচিত করে নগ্ন জঘন্য খেলায়
অন্তরালে থেকে কেন পার পেয়ে যায়?

রয়েছে যাদের হাতে দায়িত্বের ভার
সুযোগ গ্রহণ করে চাটুকারিতার
পরিচয় দিয়ে কেন উদাসীনতার
ছলনার খেলা খেলে পেয়ে যায় পার?

আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়ে জঘন্য খেলায়
আড়ালে রয়েছে যারা মুখ্য ভূমিকায়
সমন্বিত প্রত্যাশিত যথার্থ বিচার
আলোকিত জীবনের খুলে দিবে দ্বার।

লেখক : প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ, শাহবাগ, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget