• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ঘুষ দুর্নীতির মুল হোতা ও সহকর্মী দূর্জয় পালের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী নিবাস পালের বিরুদ্ধে মামলা : এখনো অধরা !

নিউজ ডেস্ক ॥ / ৬৫ Time View
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কক্সবাজার খুরুশকুলের বাসিন্দা চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার দূর্জয় পাল বিষপানে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় একই অফিসের ৩ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ায় অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত দূর্জয় পালের স্ত্রী শিল্পী মল্লিক বাদি হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং-৮৪১।
এতে আসামী করা হয়েছে চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী, ঘুষ-দুর্নীতির হোতা এবং স্বনামে-বেনামে অবৈধ অনেক সম্পত্তির মালিক নিবাস কান্তি পাল, একই অফিসের মোহরার লিটন পালসহ পিয়ন নাছির উদ্দিন। বর্তমানে নিবাস পালের বাড়ি কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়ায় এবং পিয়ন নাছির উদ্দিনের বাড়ি লাইট হাউজ এলাকায়, লিটন পালের বাড়ি চকরিয়ায়।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ওসি তদন্ত মোঃ সেলিম উদ্দিনকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হত্যা প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ করার যথেস্ট প্রমান স্বাপেক্ষে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।
এদিকে নিহত দূর্জয় পালের স্ত্রী শিল্পী মল্লিক বলেন, আমার স্বামীকে নিবাস পালসহ অন্যান্য আসামীরা কয়েক মাস ধরে নানানভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। যেটা আমার স্বামী চিরকুট এবং ভিডিওতে বলেছে। আমি আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য যে, দেশে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি অজানা কিছু নয়। স্বাধীন দেশে এখনো নিজের সহায় সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয় করতে দিতে হয় কমিশন। যা এ জাতির জন্য লজ্জাজনক।
সূত্রে জানা যায়, নিবাস চন্দ্র পালের আদি বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মগডেইল নামক এক গ্রামে। তার আত্মীয়স্বজনসহ নিবাস পালও এসময় বাদাম বিক্রেতা ছিলেন। হঠাৎ করে তিনি রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করার সুবাদে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। কুতুবদিয়ার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, সাবেক জেলা রেজিস্টার এটিএম আমান উল্লাহ’র বদন্যতায় ঢুকে পড়ে রেজিস্ট্রি অফিসে, সেই থেকে তার উত্থান। নিবাস পাল আর থেমে থাকেনি। কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার, দুর্নীতির মূর্তিমান আতঙ্ক, ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন চৌধুরীসহ, টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সর্বশেষ চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করে হয়ে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। ধরাকে সরাজ্ঞান করে তিনি এক রেজিস্ট্রি অফিসের মূর্তিমান আতঙ্ক। তথ্য-উপাত্তসহ আগামী পর্বে তার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মামলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও পুলিশ বাহিনী নিবাস পালসহ তার ২ সহযোগীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুদকসহ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী অনুরোধ জানিয়েছেন। আগামী পর্বে চোখ রাখুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Like Us On Facebook

Facebook Pagelike Widget